অনুসন্ধান ডেস্কঃ
পুলিশ বাহিনীকে মাদকমুক্ত করার বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বরিশাল জেলা পুলিশের ডোপ টেস্ট কার্যক্রমে তিন পুলিশ সদস্যের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো বরিশাল পুলিশ বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত তিন সদস্যই উজিরপুর থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষা এবং মাদক নির্মূলের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ সুপার সব পুলিশ সদস্যের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত তিন দিন আগে উজিরপুর মডেল থানার সকল পুলিশ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তিন কনস্টেবলের শরীরে মাদকের উপস্থিতি (পজিটিভ) ধরা পড়ে।
ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পরপরই ওই তিন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তলব করা হয়। বর্তমানে তাদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, মাদকবিরোধী এই শুদ্ধি অভিযান জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার দশটি থানার সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। গত ১৭ এপ্রিল উজিরপুর থানার ওই তিনজনকে পুলিশ লাইন্স ও সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই তিন সদস্যকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। তারা বর্তমানে সেখানেই আছেন।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা রয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তেমনি পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে সতর্কাবস্থা।