কুয়াকাটা (কলাপাড়া)প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম। বাজারে আগুন লাগা দামে সবজি কিনতে গিয়ে হতাশা হয়ে পরেছে সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
শনিবার(২১ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে লাউ প্রতিপিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, লেবু ১২০ টাকা হালি, টমেটো ৫০ শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা,লাউ শাকের ডগা ৪০ টাকা,বাঁধা কপি ৮০ টাকা,কাঁকরোল ১শ টাকা,গাজর ৮০ টাকা,বেগুন ৭০টাকা, ধনেপাতা ৪০০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য সবজি প্রায় ১শ ছুঁই ছুঁই দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কমদামে মিলছে মাত্র ৩০ টাকা কেজিতে পেঁপে।
ক্রেতারা জানান, প্রতিদিনের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে কম সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন।
কথা হয় প্রতিদিনের মতো আজকেও সবজি কিনতে আসা মোঃ আঃ আজিজ মিরের সাথে। তিনি বলেন,এত দাম দিয়ে সবজি কেনা যায় না গত সপ্তাহে বেগুন কিনলাম ৪০ টাকা করে আজকে কিনলাম ৬০ টাকা করে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এখন সবজিও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
আরো কথা হয় ভ্যান চালক মোঃ জয়নালের সাথ,তিনি বলেন মুই ব্যান চালাইয়া ডেলি পাই ২/৩শ টাহা কাচা বাজার হরলেই মোর টাহা শ্যাষ ওইয়া যায়,অনন্য বাজার হরমু কি দিয়া মাতাশ মোর কাম হরেনা।
কুয়াকাটা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো: এছিন হাওলাদার বলেন,৮০ টাকারও বেশি খরচ সহ লালশাক কিনতে হয়েছে। আর বিক্রি করছেন ১শ টাকায় ,৯৫ টাকা দরে শসা কিনে বিক্রি করছি ১০৫ টাকায়, এছাড়াও বরবটি১১০ ও গাজর ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা পাইকারি কেনা এসেছে বলে জানা তিনি। লাগামহীন বাজারে তেমন বিক্রিও হচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।
ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। বর্তমানে ভালো নেই উল্লেখ করে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা দিন মজুর মোঃ মামুন হাওলাদার বলেন, অনেকদিন ধরেই মাছ মাংস দিয়া ভাত খাইনা। সামান্য যে আয় হয় তা দিয়েই শাক সবজি ক্রয় করে কোনমতে সংসার চালাই।বর্তমানে শাক সবজির যে দাম তাও মনে হয় আর কপালে জুটবে না। বাজারে গেলে হাত পা কেঁপে ওঠে। প্রায় সবজির দামই ১০০ টাকা। এমন চলতে থাকলে বেঁচে থাকাই দায়।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, উৎপাদন কম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম বাড়ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউসার হামিদ জানান, সাড়া দেশেই সবজির মূল্য বৃদ্ধি। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।কেউ যাতে অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের নজর রয়েছে।