1. doinikanusandhanbd@gmail.com : anusandhanbd :
চরমোনাইতে প্রকাশ্যে ঘুরছে হত্যা মামলার আসামীরা - দৈনিক অনুসন্ধান বিডি - Doinik Anusandhan Bd        
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল জেলা আহ্বায়ক হলেন জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা কাজী আবু যাঈদ ১০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক দুই মহিলা মাদক ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক “এডভোকেট সোহানুর রহমান সুমন “ বরিশালে সরকারি খাস কৃষিজমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ দীর্ঘদিনের ভোগদখল উপেক্ষা করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বেইজিংয়ে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার ঘরবাড়ি ভাঙচুর। শিশু ধর্ষণচেষ্টা গণপিটুনিতে ধর্ষকের মৃত্যু মেহেন্দীগঞ্জে নদীতে নি’খোঁ’জে’র ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো ম*র*দে*হ। বরিশাল মহানগর পুলিশের বিশেষ আভিযানিক সাফল্য। ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যা, মরদেহ বস্তায় ভরে ফেলে দেয়া হয় নদীতে

চরমোনাইতে প্রকাশ্যে ঘুরছে হত্যা মামলার আসামীরা

  • প্রকাশিত সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৮১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ৯ মাসের শিশু সাফিন হত্যা মামলার আসামী জসিম মোল্লা ও তার স্ত্রী ময়না বেগম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে বীরদর্পে এলাকায় ঘুরছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহত শিশু সাফিনের বাবা মোঃ ইকবাল। তবে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

জসিম মোল্লা চরমোনাই ইউনিয়েনের ৭ নং ওয়ার্ডের চরমোনাই গ্রামের মৃত সোবাহান মোল্লার ছেলে। জসিমের স্ত্রী ময়না বেগম। তারা ইকবালের মামা-মামি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে- জসিম মোল্লার কাছে ১১ হাজার টাকা পেতেন এক বেটারি দোকানদার। সেই টাকার জিম্মাদার হন ইকবাল। বেশ কয়েকবার টাকা জন্য তাগাদা দিলেও সেই টাকা পরিশোধ করেন নি জসিম। এরপর ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর (রোববার) দুুপুরে ইকবাল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন জসিম। তখন ইকবাল প্রতিবাদ করলে তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন জসিম। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইকবাল। এরপর জসিম পাশে রাখা গরম ডালের পাতিল তুলে ছুড়ে মারেন। এতে ইকবালের স্ত্রী শান্তা ও সাফিনের শরীরের সিংগভাগ ঝলসে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসক তাদের ঢাকায় রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি সাফিনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১ লা মার্চ মোকাম বরিশালের বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে জসিম মোল্লা ও তার স্ত্রী ময়না বেগমকে অভিযুুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সাফিনের মামা মোঃ সাইদ খান সুমন। (যার মামলা নং- জিআর ১৩০/২০২৫)।

ইকবাল অভিযোগ করে বলেন- পাওনা ১১ হাজার টাকা চাওয়ায় আমার মামা জসিম আমার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি মাটিতে পড়ে যাই। এরপর জসিম পাশে রাখা গরম ডালের পাতিল তুলে ছুড়ে মারলে আমার স্ত্রী শান্তা ও ছেলে সাফিনের শরীরের সিংগভাগ ঝলসে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাফিনের মৃত্যু হয়।

ইকবাল অভিযোগ করে বলেন- আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হলেও পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে তাদের আটক করছে না। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি এর বিচার চাই।’

মামলার বাদী মোঃ সাইদ খান সুমন বলেন- আমার ভাগ্নের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু পুলিশ এখন পর্যন্ত কোন আসামী আটক করেনি। তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুনেছি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে গেছে। তাই আসামীদের আটক করছেনা, এমনকি চার্জশিট গঠনেও গাফিলতি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আসামী জসিম মোল্লার এক প্রতিবেশী বলেন- ওই মামলায় জসিম মোল্লাকে আটক না করার জন্য ৩৩ হাজার টাকা নিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজ। আমার সামনেই ধাপে ধাপে সে টাকাগুলো নিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আসামী জসিম মোল্লার এক স্বজন বলেন- সাফিন হত্যা মামলাটি হওয়ার পর জসিম মোল্লাকে আটক করে টাকার বিনিময় ছেড়ে দিয়েছিল এসআই মোস্তাফিজ। এরপরেও বেশ কয়েকবার এসে টাকা নিয়েছে। এমনকি আমি নিজের হাতেও তাকে টাকা দিয়েছি। এখন চার্জশিট দেওয়ার আগে কিছু টাকা চাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- এ মামলার আসামী জসিম মোল্লা উচ্চ আদালত থেকে জামিন আনায় ও তার স্ত্রী ঘটনার সাথে জড়িত না থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আর টাকা-পয়সা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি কোন টাকা নেইনি। যারা অভিযোগ করেছে তাদের নিয়ে থানায় আসেন, পারলে আমার সামনে বলুক যে আমি কোন টাকা নিয়েছি কিনা?

চার্জশিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ২/৩ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম বলেন- বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি নতুন এসেছি। খোজঁ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014  dailyanusandhanbd.com
Designed By Barishal Host