
মাদারীপুর প্রতিনিধঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের (সাবেক ৭ নং ওয়ার্ড) রায়পুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা মহোন আকনের ছেলে,ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আলী আজগরের উপর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে বাড়ী-ঘরে ভাঙচুর চালায় তৌহিদি জনতা। এ নিয়ে তার ছোট ভাই বাঁধা দিতে আসলে,তাকেও মারধর করে উচ্ছাসিত জনতা। সরেজমিনে জানা যায়,নিষিদ্ধ সংগঠন নেতা আলী আজগর এর আগে ফেসবুক পোস্টে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ ও মা আয়েশা রাঃ বিয়ে নিয়ে সমালোচনা করেন। ইচাগুড়া হাফেজিয়া কওমী মাদ্রাসা-র অধ্যক্ষ মুফতি সাইফুল ইসলাম জানান,তার পরিবার আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত এবং তখন আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় থাকায় তারা কোন কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার পরিবারকে তখন এই বিষয়ে জানানো হলেও,তারা এই আলি আজগরকে থামাতে পারেনি। সে প্রায়ই প্রকাশ্যে ইসলামের সমালোচনা করতো, ফেসবুকে বিভিন্ন সময়ে ইসলামিক শিক্ষা ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে ও আলেমসমাজের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে দেখা যায়। এর জের ধরেই তৌহিদি জনতা আল্লাহর প্রতি ও ইসলামের প্রতি ভালোবাসার থেকে এই আক্রমণ করে।
বর্তমান ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির জনাব বেলায়েত সরদার বলেন,ইসলামের এমন শত্রু আমাদের এলাকায় আর নেই। সে দৃশ্যত একজন মুরদাত। আর মুরদাতের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তিনি আরো বলেন, আমি এর আগে মানুষের কাছে শুনতাম এই ছেলে নাস্তিক হয়ে গেছে। কিন্তু এখন ঘটনাটা সামনে আসায় বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম। ৯০% মুসলমানদের দেশে ইসলাম ও আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ এর শানে বেয়াদবি করার মতো দৃষ্টতা যে দেখাবে, তার বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। আমি শুনেছি ৫ ই আগস্টের পর সে পলাতক আছে। আমার সাথে গত ৫ ই আগস্টের পর আর তার কোন দেখা হয়নি। তবে এর বিচার আমরা করবো তাকে যখনই পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে রায়পুর গ্রামের স্থানীয় কিছু লোক দাবী করেন,নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা প্রগতিশীল রাজনীতি করেন। তার বাড়ীতে এই হামলা শুধুমাত্র ধর্মীয় নয় বলে এলাকার বেশ কিছু লোক মনে করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি দাবি করেন,”এই হামলার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত। যারা হামলা করেছে তাদের মধ্যে অনেকে স্থানীয় বিএনপি,জামায়াতের রাজনীতির সাথেও জড়িত!”
এই বিষয়ে কালকিনি থানায় যোগাযোগ করলে, কালকিনি থানার অফিসার্স ইন চার্চ(ওসি) জানান,” এই বিষয়ে আমি শুনেছি তবে এখনো পর্যন্ত থানায় এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।” তিনি আরো বলেন,”ইসলাম ও নবীর দুষমনের বিচার হওয়া উচিৎ। এই বিষয়ে কেউ যদি থানায় অভিযোগ করে,অবশ্যই আমরা এই বিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। এমনিতেও এই আলী আজগরকে আমরা খুঁজতেছি,তার নামে মাদারীপুর সদর থানায় জুলাই-আগস্টের হত্যাকান্ডের মামলা রয়েছে। ”
ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছিলো কি’না জানতে চাইলে,
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য বলেন,”বর্তমানে মবের বিরুদ্ধে ও আওয়ামীলীগের পক্ষে থানায় অভিযোগ গ্রহনে উপর মহল হতে নিষেধ করা আছে!”
আমাদের নিউজ প্রতিনিধি এই বিষয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আলী আজগর ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে,কারো সন্ধান পাওয়া যায় নি।