
প্রতিবেদক সাইফুল ইসলামঃ বরিশাল:
”আইন আছে প্রয়োগ নাই, সাকুরার বেপরোয়া গতি থামানোর কেউ নাই”— তীব্র ক্ষোভ আর চোখে জমানো জল নিয়ে ঠিক এই স্লোগানেই মুখরিত হয়ে উঠেছিল মহাসড়ক। গত ১৭ই মে (রবিবার) সাকুরা পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় নির্মমভাবে পিষ্ট হয়ে নিহত হন মোটরসাইকেল আরোহী মো: শাহিন মৃধা। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সবার জন্য নিরাপদ সড়কের দাবিতে আজ এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ই মে মহাসড়কে নিজ মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সাকুরা পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস বেপরোয়া গতিতে শাহিন মৃধাকে চাপা দেয়। বাসের গতি এতটাই অনিয়ন্ত্রিত ছিল যে, মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শাহিন। দুর্ঘটনার পর পরই চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের তৎপরতায় বাসটিকে আটক করা সম্ভব হয়।
আজকের মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। আন্দোলনকারীদের মূল স্লোগান ছিল— “আইন আছে প্রয়োগ নাই, সাকুরার বেপরোয়া গতি থামানোর কেউ নাই।”
বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সাকুরা পরিবহনের বাসগুলোর বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়তই তারা মহাসড়কে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কিন্তু প্রশাসনের চোখের সামনে এসব ঘটলেও কোনো স্থায়ী বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
নিহতের এক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“আজ শাহিন চলে গেছে, কাল হয়তো অন্য কেউ যাবে। এই সাকুরা পরিবহনের বেপরোয়া গতি থামানোর কি কেউ নেই দেশে? আমরা শুধু ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বিচার চাইতে আসিনি, আমরা এই খুনি চালকদের ফাঁসি এবং সড়কে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চাই।”
অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তি: সাকুরা পরিবহনের ঘাতক চালক ও হেলপারকে সঠীক বিচার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষতিপূরণ: নিহত শাহিন মৃধার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
গতির সীমাবদ্ধতা ও ফিটনেস পরীক্ষা: দূরপাল্লার বাসগুলোর (বিশেষ করে সাকুরা পরিবহনের) গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
আইনের কঠোর প্রয়োগ: হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়াতে হবে যাতে “আইন আছে প্রয়োগ নাই”— এই অপবাদ থেকে সড়ক ব্যবস্থাপনা মুক্তি পায়।