1. doinikanusandhanbd@gmail.com : anusandhanbd :
পুলিশের পোশাক বদলের বিরুদ্ধে ছিলেন এসপি'রা - দৈনিক অনুসন্ধান বিডি - Doinik Anusandhan Bd        
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
আধুনিক বরিশালের রূপকার শওকত হোসেন হিরনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বরিশাল জেলার সকল ছাত্রদল নেতাকর্মী ও বরিশালবাসী “আসিফ আল-মামুন’কে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসাবে দেখতে চান। দিল্লির বৈঠকে শেখ হাসিনা-কামাল”কে ফেরত চাইল ঢাকা রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাশ চালুর পরিকল্পনা সরকারের, শিক্ষার্থীরাও আগ্রহী মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে চীন সফরে যাচ্ছে বিএনপির প্রতিনিধিদল “প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ” অস্ট্রেলিয়া ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল ষড়যন্ত্রের শিকার আবু সালেহ ফরাজি, বরিশাল বিভাগীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন বরিশাল সিটি’র নতুন প্রশাসক ” অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন” জাতীয় ছাত্রশক্তি ছাত্র সংগঠনের বরিশাল মহানগরের সদস্যসচিবের অসদাচরণ ও কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ

পুলিশের পোশাক বদলের বিরুদ্ধে ছিলেন এসপি’রা

  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশ বাহিনী পোশাক পরিবর্তন করে। তখন কেউ মুখ খুলেনি, কিন্তু বর্তমানে পুলিশ সদস্যরা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন যে ওই সিদ্ধান্তে তাঁদের মত ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পোশাক পরিবর্তনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের মতামত নেওয়া হয়, কিন্তু কোনো জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট-প্রধানেরা সায় দেননি। পুলিশের শীর্ষ ডিআইজি পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর ইচ্ছেতেই দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এমনকি ১৪১ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয় একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের নিকট।

সম্প্রতি পোশাক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং আগের পোশাকে পুনরায় ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতি দিয়েছে। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পুলিশ পুরোনো পোশাকে ফিরবে কি না, সে সম্পর্কে সরকার এখনও কোনো নির্দেশনা জারি করেনি। তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি থেকে নতুন পোশাকের কাপড় সরবরাহ চলছে। পুলিশের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পোশাক পরিবর্তন কোনো গবেষণা ছাড়াই হয়েছে। দ্রুত দরপত্র আহ্বান, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, দ্রুততম সময়ে কাপড় সরবরাহ এবং মানহীন কাপড় নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ঘটে।

এক্ষেত্রে খোদা বকশ চৌধুরী ছিলেন নেপথ্যের মূল কারণ। পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেউ কেউ বিরোধিতা করলেও, এককভাবে খোদা বকশের সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ পুলিশের পোশাক পরিবর্তিত হয়। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেও, খোদা বকশ চৌধুরী চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফলে পুলিশ বাধ্য হয় লৌহ রঙের পোশাক মেনে নিতে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের পোশাক নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পোশাকের রং পর্যবেক্ষণ করে পুলিশের অনেক সদস্য ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর পুলিশের তখনকার মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম নতুন পোশাকের বিষয়ে সব জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট-প্রধানদের লিখিত মতামত চেয়ে চিঠি দেন। প্রত্যেক জেলার সুপার ও ইউনিট-প্রধানেরা পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁদের অনিচ্ছার কথা জানান। বিষয়টি আইজিপি তখনই সরকারকে জানান।

এরপরেও সর্বশেষ গত জুলাইয়ে একটি ক্রাইম কনফারেন্সে ইউনিট-প্রধান ও পুলিশ সুপারদের সাথে একটি জুম মিটিং করেন আইজিপি বাহারুল আলম। সেখানে আবারও পোশাকের বিষয়ে কর্মকর্তাদের মতামত চাওয়া হয়। সেখানেও কর্মকর্তারা নতুন পোশাকের বিষয়ে আপত্তি জানান। পুলিশ কর্মকর্তাদের আপত্তির পর সরকার র‍্যাব, আনসার ও পুলিশের নতুন পোশাক চূড়ান্ত করে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রটি জানায়, তাড়াহুড়ো করে ১৪১ কোটি টাকার কাপড় কেনার দরপত্র করা হয়। বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ কাজ পায়। সেখানে চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘোষিত আয়ের বাইরে সম্পদের মালিক হওয়ায় মামলা রয়েছে। গত বছর দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ এই মামলা করেন। আদালত মো. নুরুল ইসলামের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

সরকারি ক্রয় নীতিমালার অধীনে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮—নিয়ম অনুযায়ী দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরকারি কেনাকাটায় অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও তাঁর প্রতিষ্ঠান কাপড় ক্রয়ের কাজ পায়; যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের কাজ দেওয়ার বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তাধীন ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে পুলিশের কেনাকাটায় যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, পুলিশের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন ক্রয়াদেশ দেওয়া শুধু ক্রয়নীতির লঙ্ঘন নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যোগসাজশমূলক দুর্নীতি-সহায়ক ছিল। বর্তমান সরকারের উচিত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং অনিয়ম হয়ে থাকলে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

এদিকে খোদা বকশ চৌধুরী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, তিনি যোগদান করার আগেই পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনা হয়, সবকিছু নির্ধারিত ছিল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ইতিমধ্যে নোমান গ্রুপ থেকে মেট্রোপলিটন ও বিশেষায়িত পুলিশ সদস্যদের জন্য অন্তত ১৫ লাখ মিটার কাপড় নেওয়া হয়েছে। আরও ধাপে ধাপে নেওয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (লজিস্টিকস) সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, সব কাপড় একসাথে দেওয়া হবে না। তাঁরা ধাপে ধাপে কাপড় নিচ্ছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তির পরেও কাপড় সরবরাহ হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা সরকার থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি। তাই কাপড় নিয়েই চলতে থাকবে। নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পোশাকের মানের বিষয়ে সমস্যা নেই। পুলিশ যা বলছে, তাই পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে। আমি শুনেছি পুরোনো পোশাকে পুলিশ ফিরে যাবে। আমি ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পেয়েছি। আমাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমি ১০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তাদের কাপড় সরবরাহ করছি, এখনও করছি, ধাপে ধাপে সব দেওয়া হবে। পুলিশ আর কাপড় না নিয়ে পারবে না, তাদের কাপড় নিতে হবে।

দুর্নীতির মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মামলা আমার বিরুদ্ধে হয়েছে; কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু নেই। তাই প্রতিষ্ঠান সরকারি কেনাকাটায় অংশ নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014  dailyanusandhanbd.com
Designed By Barishal Host