
অনলাইন ডেস্কঃ
বরিশাল সাংবাদিক অঙ্গনে এখন যেন মৌসুমি বাতাস না,মৌসুমি দলবদল বইছে!চামচামির শেষ নেই,শুরু হয়েছে নতুন সিজনের দলবদল প্রিমিয়ার লীগ। কাল পর্যন্ত যারা জামায়াতপন্থী, তার আগের মৌসুমে আওয়ামীপন্থী, আজ তারা হঠাৎ করে খাঁটি বিএনপি-মনস্ক! কী দারুণ রূপান্তর! গিরগিটি লজ্জা পায়, আয়নাও চিনতে চায় না!
সাংবাদিকতা এখন আর পেশা না,এটা যেন পজিশনিং বিজনেস। যে সরকার, সেই স্লোগান। যে ক্ষমতা, সেই প্রশংসা। আদর্শ? সেটা নাকি পুরনো ফ্যাশন!ফ্যাসিবাদ থেকে বিএনপি,সব আমলেই দালালী করে লাখ,কোটি ইনকাম করা যায়,কিন্তু সত্য লিখতে গেলে যে মেরুদণ্ড লাগে, সেটা বাজারে বিক্রি হয় না বলেই হয়তো আপনাদের ঝুলিতে নেই।
এখন সবাই ব্যস্ত ফটোসেশনে। মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে একখানা ছবি, নেতার সাথে হাসিমুখে সেলফি,এই ছবিই হয়ে যায় ভবিষ্যতের টেন্ডার লাইসেন্স!সরকারি দপ্তরে দরজা খুলবে,টেন্ডার বাণিজ্য চলবে, দালাল বাণিজ্য জমবে, আর সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে “অসহায়” সেজে অনুদান তুলবে,এই নাটকের মঞ্চায়ন তো বহুদিনের! চরিত্র বদলায়, কিন্তু স্ক্রিপ্ট একই থাকে। প্রেসক্লাবের বড় নেতা হোন, ব্যুরো চিফ হোন, সম্পাদক হোন,পদবী যত বড়ই হোক, চরিত্রের ওজন তো আর বাড়ে না! জনগণ এখন সব বোঝে। তারা জানে কার কলমে কালি, আর কার কলমে কমিশন।
আপনারা চলমান ধান্দাবাজির আমল চালিয়ে যান, সিজন বদলান, ব্যানার বদলান, ব্যাজ বদলান,কিন্তু মনে রাখবেন, কেউ কেউ আছে যারা আগেও যেমন ছিল,এখনও তেমন আছে।পদ নয়, সুবিধা নয়,সত্যটাই তাদের একমাত্র দল।
আর হ্যাঁ, ইতিহাস বড় নির্মম জিনিস। আজ যারা ফটোসেশনে ব্যস্ত, কাল তারাই হয়তো পুরনো ছবির ক্যাপশন পাল্টাতে ব্যস্ত থাকবে।চামচামির রাজনীতি ক্ষণস্থায়ী, চরিত্রের ইতিহাস দীর্ঘস্থায়ী।