
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরজাগুয়া এলাকায়, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২ একর ৮৪ শতাংশ সরকারি খাস (কার্ডভুক্ত) কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে জমিটি ভোগদখল করে আসা একটি পরিবারের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে পিলার স্থাপন ও পতাকা টাঙিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সাইদুল ইসলাম, দপদপিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মঈন মীর, নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক ইলিয়াস খন্দকারসহ কয়েকজন মৌজা- জাগুয়া, জেএল নং-৫৪, দাগ নং-১৮৮৯-এর অন্তর্ভুক্ত জমিতে পিলার স্থাপন ও পতাকা টাঙিয়ে নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকার মো. আনিসুর রহমান খান ও আবদুল্লাহ আল রিয়াজ দাবি করেন, তাদের পরিবার ১৯৪৭ সাল থেকে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে সরকারি খাস (কার্ডভুক্ত) জমিটি ভোগদখল করে আসছে। তারা নিয়মিত সরকারি খাজনা, প্রযোজ্য রাজস্ব ও অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ করেছেন বলেও দাবি করেন।
অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্য, সরকারি খাস জমি ব্যক্তি পর্যায়ে ভোগদখলের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তারা কয়েক দশক ধরে জমিটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী চক্র তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখল উপেক্ষা করে জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করছে।
মো. আনিসুর রহমান খান অভিযোগ করেন, মৃত গনী খন্দকারের ছেলে ইলিয়াস খন্দকার, যিনি নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত বলে দাবি করা হয়েছে, তিনি স্থানীয় মঈন মীর, সাইদুল ইসলাম ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, জমির বিভিন্ন স্থানে পিলার স্থাপন ও পতাকা টাঙিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহিন মীর (৩৭), পিতা: মৃত আজিজ মীর, বলেন, “প্রায় ৩৯ বছর ধরে জমিটি ওই পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে। সম্প্রতি ইলিয়াস খন্দকার আমাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তিনি এসিল্যান্ড কার্যালয়ের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত বলে জানি।”
স্থানীয় মো. আমীর হোসেন (৪৫) বলেন, “আমার জানা মতে, প্রায় ৪০ বছর ধরে জমিটি ওই পরিবারের ভোগদখলে রয়েছে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ (৪৪) বলেন, “এসিল্যান্ড বলেছেন, এটি খাস জমি। জমি নিয়ে কারও কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে অফিসে এসে দেখা করতে বলেছেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি। অপর দুই অভিযুক্ত মঈন মীর ও ইলিয়াস খন্দকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।