
মোঃ সাইফুল ইসলামঃ
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাংবাদিকদের ওপর লাঠি উড়িয়ে আঘাত করা হয়েছে। আজকের পত্রিকার কাওসার আহমেদ রিপনসহ তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁদের শরীরে ঘাতক লাঠি-আঘাতের চিহ্ন, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর চিহ্ন হল গণতন্ত্রের বুকের ওপর প্রমাণস্বরূপ রক্তের দাগ।
সাংবাদিকরা মাঠে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন, সত্য প্রকাশ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যাদের দায়িত্ব ছিল আইন রক্ষা করা, তারা সাংবাদিকদের ওপর বর্বরভাবে লাঠি নিক্ষেপ করেছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা এক রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ, গণতন্ত্রকে শিরচ্যুত করার এক পরিকল্পিত আক্রমণ।
ঘটনার আগে এসআই আলামিন সতর্ক করেছিলেন, “সাংবাদিকদের ওপর লাঠি ব্যবহার করা যাবে না।” তবুও কনস্টেবলরা লাঠি বর্ষণ করেছেন। এটি শুধুই শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়; এটি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, যেখানে আইনরক্ষকই নাগরিকের শত্রু। যারা এ ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তি হোক না হলে এই বর্বরতা নিয়মিত ঘটনা হয়ে যাবে।
ডিএমপি দুঃখ প্রকাশ করছেন, ভিডিও ফুটেজ আছে বলছেন। অথচ দুঃখের বাক্য কোনো আহত সাংবাদিককে ঠিক করবে না। দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এই ধরনের বর্বরতা চলতে থাকবে।
রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, যদি আইনরক্ষক সাংবাদিককে নিহত করতে পারে, তাহলে জনগণ কি করবে? স্বাধীনতা কি বাঁচবে? গণতন্ত্র কি বাঁচবে? যদি দায়ী অপরাধীরা শাস্তি না পায়, সাংবাদিকরা মাঠে নামার মতো শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এবং এই প্রতিরোধ রাষ্ট্রীয় বর্বরতার চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া হবে।
এখনই সময় দেশের সব নাগরিক, সাংবাদিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে হবে“পুলিশের লাঠিপেটা আর গণতন্ত্র হত্যা নয়।” যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদের দায়িত্ব শুধু ক্ষমতার আনন্দ নয়; তাদের দায়িত্ব হলো আইন, মানবাধিকার, এবং সত্য রক্ষা করা।
এই লাঠিপেটা শুধু সাংবাদিককে আহত করেনি; এটি দেশের স্বাধীনতা, ন্যায় এবং গণতন্ত্রকে শিরচ্যুত করেছে। এর প্রতিকার ছাড়া ভবিষ্যত মুছবে সব আশা।
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন বিগত দিনে স্বৈরাচার সরকার ছিল পুলিশ তাদের ইচ্ছা মতন দেশের মানুষের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন । এবং গণমাধ্যম কর্মীরা জবাবদিহিতা করতে পারি নাই সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা পায়নি। বর্তমান সরকার বলেছেন রাষ্ট্রের সকল কাজের জনগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন বলেছেন এবং করতে পারবে, বর্তমান নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা সঠিক বিচার চাই । সঠিক বিচার না হলে আমরাও মাঠে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সঠিক বিচার আদায় করে নিবে ইনশাল্লাহ