1. doinikanusandhanbd@gmail.com : anusandhanbd :
এক কলসি বিশুদ্ধ পানির জন্য পাড়ি দিতে হয় ১ ঘণ্টার পথ - দৈনিক অনুসন্ধান বিডি - Doinik Anusandhan Bd        
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সাব-ইন্সপেক্টর রেজাউল ইসলাম রেজার নেতৃত্বে অভিযান, বরিশালে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ বরিশাল নগরীতে স্বর্ণের দোকানে পরিচয়, কুরআনের দোহাই দিয়ে প্রতা/রণা: ‘প্রেমিক’ শাকিব এখন গারদে জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল জেলা আহ্বায়ক হলেন জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা কাজী আবু যাঈদ ১০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটক দুই মহিলা মাদক ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক “এডভোকেট সোহানুর রহমান সুমন “ বরিশালে সরকারি খাস কৃষিজমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ দীর্ঘদিনের ভোগদখল উপেক্ষা করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বেইজিংয়ে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতার ঘরবাড়ি ভাঙচুর। শিশু ধর্ষণচেষ্টা গণপিটুনিতে ধর্ষকের মৃত্যু মেহেন্দীগঞ্জে নদীতে নি’খোঁ’জে’র ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো ম*র*দে*হ।

এক কলসি বিশুদ্ধ পানির জন্য পাড়ি দিতে হয় ১ ঘণ্টার পথ

  • প্রকাশিত সময়ঃ শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৩৩ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার,ভোলা অফিসঃ
ভোলার চরফ্যাশনের বঙ্গোপসারগর মোহনার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ইউনিয়নের বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে। ইউনিয়নটিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাস থাকলে তাদের জন্য সবমিলে বর্তমানে সচল টিউবওয়েল রয়েছে প্রায় ৫০টি। তাই টিউবওয়েল সংকটের কারণে এক কলসি পানির জন্য নারীদের পাড়ি দিতে হয় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার পথ। এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে নদী ও পুকুর পানি পান করে অসুস্থ হচ্ছেন অনেকেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর মোহনায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ইউনিয়নের অবস্থায়। বর্তমানে এই ইউনিয়নে প্রায় ১২ হাজার বসবাস করছেন। কিন্তু ঢালচর ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির জন্য রয়েছে টিউবওয়েলের তীব্র সংকট। সরকারিভাবে কাগজে কলমে ১১২টি টিউবওয়েল দেখালেও বিভিন্ন সময় নদী ভাঙনের কারণে বিলীন হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক টিউবওয়েল। আর বিভিন্ন সময় অকেজো হয়ে পড়ে আছে বেশি কয়েকটি। তাই বিশুদ্ধ পানির জন্য সচল রয়েছে প্রায় ৫০টি টিউবওয়েল। এতে টিউবওয়েলের তীব্র সংকটের কারণে নারীদের এক কলসি পানির জন্য পাড়ি দিতে হয় ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার পথ। বিশুদ্ধ পানির জন্য বেশি ভাগ নারীরাই পায়ে হেঁটে এই পথ পাড়ি দেয়।

ঢালচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর গ্রামের ফিরোজা বেগম ও ৫নম্বর ওয়ার্ডের তারুয়া গ্রামের গৃহবধূ রেসমা বেগম জানান, তাদের আশপাশে কোনো টিউবওয়েল নেই। তাই পায়ে হেঁটে ফিরোজা বেগমের প্রায় ১ ঘণ্টা ও রেসমা বেগমের প্রায় ৩০ মিনিট দূরে টিউবওয়েলে যেতে হয়। প্রতিদিনই তারা এক কলসি পানির জন্য এভাবেই সংগ্রাম করেন।

তারা আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে তারা কাঁদা মাড়িয়ে পানি আনেন। অনেক সময় তারা নদীর পানিও পান করেন।

তারুয়া গ্রামের আরেক গৃহবধূ শাহনাজ বেগম জানান, তার স্বামী জেলে কাজ করেন সংসার চালান। আমার স্বামীর তো টাকা নেই যে টাকা দিয়ে টিউবওয়েল বাড়িতে বসাবো। তাই প্রতিদিন কলসি নিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট হেঁটে পানি আনি। কেউ তো আমাদের কষ্ট দেখে না।

মাঝের চর বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ নূর নাহার বেগম জানান, আমরা নারীরা অসুস্থ হয়ে পরলেও তো দূরে গিয়ে টিউবওয়েলের পানি আনতে পারি না। আর বাড়ির পুরুষরাও তো সকাল সকাল কাজের বের হয়। তখন বাধ্য হয়ে নদী ও পুকুরের পানি পান করি। এতে শিশুদেরসহ আমাদের ডায়রিয়া হয়।

ঢালচরের আনন্দ বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আলী ও মো. জসিম জানান, ঢালচরে বহু বছর ধরে টিউবওয়েলের সংকট। তারমধ্যে নদী ভাঙনে প্রায় ৫০ টারও বেশি টিউবওয়েল চলে গেছে। আর অনেক টিউবওয়েল বিভিন্ন সময় অকেজো, পানি উঠে না।

তারা আরও জানান, ঢালচরের আমাদের মানুষের এখন প্রধান সমস্যা টিউবওয়েলের বিশুদ্ধ পানির সংকট। এখন সরকার যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত ৫০০ টিউবওয়েল ঢালচর ইউনিয়নে বসায় তাহলে আমাদের এই সমস্যা সমাধান হবে।

ভোলা জেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান তরফদার জানান, ঢালচরে ১ শতাধিকেরও অধিক টিউবওয়েল থাকলেও নদী ভাঙনের কারণে অনেক টিউবওয়েল নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে। ঢালচরে টিউবওয়েল সংকট রয়েছে। তবে বর্তমানে কোনো বরাদ্দ না থাকায় টিউবওয়েল দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু টিউবওয়েলের বরাদ্দ এলে ঢালচরে আরও কিছু টিউবওয়েল দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014  dailyanusandhanbd.com
Designed By Barishal Host